বিস্তারিত খবর

Blog Photo
12 Aug 2025

ইমাম-খতীব-মুয়াজ্জিনদের ন্যায্য বেতন-ভাতা ও মসজিদ নীতিমালার দাবিতে জাতীয় কনফারেন্স – ২০২৫


ইমাম খতীব মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, চাকুরিস্থলে জুলুম-অবিচার রোধ, এবং কতিপয় মসজিদ কমিটির স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে সরকারীভাবে মসজিদ ব্যাবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন করে গেজেট আকারে প্রকাশের দাবিতে রাজধানীর বি এম এ মিলনায়তন (ডা. শামসুল আলম খান মিলন হল)-এ অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় কনফারেন্স – ২০২৫

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, উপদেষ্টা, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
প্রধান আলোচক ছিলেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সদস্য, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
মূখ্য আলোচক ছিলেন ড. সাইয়্যেদ মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ওয়া সিদ্দিকী, পীর সাহেব, জৈনপুর।
সভাপতিত্ব করেন মুফতি শামীম মজুমদার, চেয়ারম্যান, শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন। 

সংগঠনের মহাসচিব মুফতি শরীফ উল্লাহ তারেকীর সঞ্চালনায় উক্ত সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, ছারছীনা দরবার শরীফ, ফুলতলী দরবার শরীফ, লেবার পার্টি, জাতীয় নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জনতার অধিকার পার্টি, পিপলস পার্টি সহ শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশনের জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ইমাম-খতীব-মুয়াজ্জিনদের উপর চলমান নানা সমস্যা তুলে ধরে অবিলম্বে সমাধানের জন্য সরকারের কাছে আহবান জানান।

শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন এর উপস্থাপিত দাবিসমূহ:

১. দেশব্যাপী মসজিদ কমিটির স্বৈরাচারী আচরণ বন্ধে সরকারীভাবে মসজিদ ব্যাবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশ।

২. সরকারিভাবে ইমাম-খতীব-মুয়াজ্জিনদের ন্যায্য বেতন, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও বোনাস চালু করা।

৩. নিয়োগ ও বরখাস্ত প্রক্রিয়ায় স্থানীয় বিজ্ঞ আলেমদের মতামত গ্রহণ ও লিখিত চুক্তিপত্র প্রদান।

৪. অন্যায়ভাবে চাকুরীচ্যুতি বন্ধ ও কমপক্ষে ৪ মাসের আগাম নোটিশ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অগ্রিম বেতন প্রদান বাধ্যতামূলক করা।

৫. মিম্বারে স্বাধীনভাবে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক খুতবা প্রদানের নিশ্চয়তা।

৬. সাপ্তাহিক ও বার্ষিক ছুটি, এবং সামর্থ্যবান মসজিদে আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা।

৭. রাজনৈতিক স্বার্থে ইমাম-খতীবদের ব্যবহার বন্ধ করা।

৮.  চিহ্নিত অপরাধী,  বেনামাজি ইত্যাদি ব্যক্তিদের মসজিদ কমিটির দায়িত্ব থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা।

৯. মসজিদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

১০. জাতীয় ও সামাজিক পর্যায়ে বার্ষিক ধর্মীয় সম্প্রীতি সভা আয়োজন করা।

১১. বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ও শহীদদের পক্ষে খুতবা দেওয়ার কারণে চাকরিচ্যুত ইমাম-খতীবদের পুনর্বহাল এবং জুলাই আন্দোলনে   শহীদ আলেম পরিবারের রাষ্ট্রীয় সম্মান, চিকিৎসা  ও যাবতীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা।

বক্তারা বলেন, “রাষ্ট্রের সংকটকালে ইমাম-খতীবরা সর্বদা মিম্বার থেকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। কিন্তু তাদের ন্যায্য অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি। সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

সাম্প্রতিক পোস্ট

জনপ্রিয় পোস্ট